ছবি সংগৃহীত
লাইফস্টাইল ডেস্ক :আমাদের খাদ্যতালিকায় থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ছোলা। এটি প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং মিনারেলে সমৃদ্ধ। ইফতারে ছোলাকে সুপারফুড বলা যায়। এতে আছে উচ্চমাত্রার ডায়েটারি ফাইবার, যা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি টাইপ-২ ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারি।
প্রশ্ন হচ্ছে, ছোলা কীভাবে খাওয়া উচিত? কাঁচা না সেদ্ধ? কীভাবে ছোলা খেলে মেলে বেশি উপকারিতা। চলুন জেনে নিই-
ছোলা খাওয়ার সঠিক উপায়
ছোলা বিভিন্নভাবে খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়। অনেকে কাঁচা ছোলা ভিজিয়ে খান। আবার সেদ্ধ বা ভাজা ছোলাও জনপ্রিয়। কিন্তু ভাজা ছোলায় অতিরিক্ত তেল ব্যবহৃত হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। সেই হিসেবে কাঁচা ছোলা বেশি উপকারি।
কাঁচা ছোলা খাওয়ার নিয়ম
কাঁচা ছোলা সারারাত বা অন্তত ৮-১০ ঘণ্টা ছোলা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। ভিজানো ছোলা নরম হয় এবং সহজে হজম করা যায়। খাওয়ার আগে খোসা ছাড়িয়ে নিতে পারেন।
ভেজানো কাঁচা ছোলার সঙ্গে সামান্য লবণ, কাঁচা মরিচ কুচি, লেবুর রস বা শসা মিশিয়ে খেতে পারেন। এই উপাদানগুলো স্বাদ বাড়ায় এবং পুষ্টি গ্রহণ সহজ করে।
সেদ্ধ ছোলা খাওয়ার পদ্ধতি
ছোলা ধুয়ে ৮-১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে সেদ্ধ করুন। সেদ্ধ করার সময় সামান্য লবণ ও হলুদ মেশালে স্বাদ বৃদ্ধি পায়। সেদ্ধ ছোলার সঙ্গে পেঁয়াজ, টমেটো, শসা, ধনেপাতা ও লেবুর রস মিশিয়ে সালাদ বানিয়ে খেতে পারেন।
কাঁচা ছোলা না সেদ্ধ ছোলা— কোনটি বেশি উপকারি?
কাঁচা ছোলা আর সেদ্ধ ছোলা দুটোই উপকারি। কাঁচা ছোলায় ফাইবার ও প্রোটিন বেশি থাকে। এটি শক্তি বৃদ্ধি করে। অন্যদিকে সেদ্ধ ছোলা সহজে হজম হয়। এটি গ্যাস্ট্রিকের ঝুঁকি কমায়। তবে তুলনার প্রসঙ্গ আসলে কাঁচা ছোলা একটু এগিয়ে থাকবে। কারণ সেদ্ধ ও ভাজা ছোলায় তেল-মসলা মেশানো থাকে যা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়।
সতর্কতা: কাঁচা ছোলা খেয়ে পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। এমনটা হলে সেদ্ধ ছোলা খান। অতিরিক্ত লবণ বা মশলা মেশানো থেকে বিরত থাকুন।
ইফতারের খাবার তালিকায় ছোলা রাখুন। এতে উপস্থিত সলিউবল ফাইবার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত ছোলা খাওয়ার অভ্যাস ভালো। তবে কিডনির সমস্যা থাকলে এটি এড়িয়ে যাওয়া উচিত।